🕌 মোহরানা (মহর) কী?
মহর বা মোহরানা হলো—বিয়ের সময় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে নির্ধারিত একটি অর্থনৈতিক অধিকার বা উপহার, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বাধ্যতামূলক। এটি কেবল উপহার নয়, স্ত্রীর একটি মৌলিক অধিকার।
📌 কে মহরানা দাবি করতে পারে?
✅ কেবল স্ত্রী মহর দাবির অধিকার রাখেন।
✅ বিয়ের সাথে সাথেই এটি স্ত্রীর হক (অধিকার) হিসেবে গণ্য হয়।
✅ এটি স্ত্রীকে পুরোপুরি প্রদান করা ফরজ, অগ্রিম বা বিয়ের পরবর্তী সময়ে পরিশোধযোগ্য হতে পারে (মুহাজ্জাল বা মুয়াজ্জাল)।
⏰ কখন মহরানা দাবি করা যায়?
বিয়ের পরপরই, যদি তা “মুহাজ্জাল” (অগ্রিম) ধরণে নির্ধারিত হয়।
যদি “মুয়াজ্জাল” (বিলম্বিত) ধরণে হয়, তাহলে তা পরবর্তীতে যে কোনো সময়ে দাবি করা যায়, বিশেষ করে:
তালাকের সময়
স্বামীর মৃত্যুতে
স্বামী আলাদা থাকতে চাইলে
স্ত্রীর প্রয়োজনে
❓ মহিলারা যদি স্বামীকে তালাক (খোলাআ বা তানাযু) দেন, তাহলেও কি মহরানা দাবি করতে পারবেন?
🔸 ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী ২টি ভিন্ন অবস্থা:
১. খোলাআ (খুলা):
যখন স্ত্রী নিজে সম্পর্ক থেকে বের হতে চায় এবং বদলে মহর বা অন্য কিছু ফিরিয়ে দেয়, তখন:
স্ত্রী মহর দাবি করতে পারেন না।
বরং মহর ফিরিয়ে দিতে হয় (যদি আগে পেয়েও থাকেন)।
এটি একটি পারস্পরিক সমঝোতা।
২. তানাযু বা বিচারিক তালাক (Qadi divorce):
যদি স্ত্রী ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে তালাক নেন, স্বামী দায়িত্বে ব্যর্থ হলে:
স্ত্রী মহর দাবি করতে পারবেন এবং তা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
📖 কোরআনে মোহর সম্পর্কে কোন আয়াতে বলা হয়েছে?
মহরের বিষয়ে আল-কোরআনে একাধিক আয়াতে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম:
🔹 সূরা নিসা, আয়াত ৪:
“তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাও।…”
(সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪)
🔹 সূরা বাকারা, আয়াত ২৩৬-২৩৭
তালাকের পূর্বে স্পর্শ না করা ও মহর নির্ধারিত না হলে কী করতে হবে—তা বলা হয়েছে।
খুবি সুন্দর লিখেছেন।
ধন্যবাদ স্যার।