Cognizance Order এর বিরুদ্ধে Revision করা যায় কি না?

ভূমিকা:
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় (Criminal Justice System) “Taking Cognizance” একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এটি এমন এক পর্যায়, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগপত্র বা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো অপরাধকে আমলে গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই Cognizance Order-এর বিরুদ্ধে Revision করা যায় কি না?


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘদিনের বিচারব্যবস্থা ও দৃষ্টান্ত (precedents) এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিয়েছে— না, Cognizance Order-এর বিরুদ্ধে Revision করা যায় না।

আইনি ভিত্তি (Legal Foundation):
ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure, 1898) ধারা 435–439 অনুযায়ী রিভিশনের ক্ষমতা (power of revision) শুধুমাত্র সেইসব আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো “final order” বা চূড়ান্ত প্রকৃতির,
কিন্তু Cognizance Order কোনো মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি কেবলমাত্র মামলার অন্তর্বর্তী বা প্রাথমিক ধাপের আদেশ (Interlocutory Order)। সুতরাং, এর বিরুদ্ধে রিভিশন গ্রহণযোগ্য নয়।


Interlocutory Order কী?
Interlocutory Order হলো — এমন একটি মধ্যবর্তী আদেশ, যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না, বরং মামলার প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ: পুলিশ রিপোর্টের ওপর ম্যাজিস্ট্রেটের Cognizance গ্রহণ,
সাক্ষ্যগ্রহণের পূর্বে প্রাথমিক নির্দেশ,
অভিযোগপত্র গৃহীত বা প্রত্যাখ্যানের আদেশ, ইত্যাদি।
এই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা হলে বিচারপ্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হবে — যা বিচারব্যবস্থার গতি রোধ করে।


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ (Judicial Precedents)


1️⃣ The State vs. Md. Ishaque and others, 39 DLR (AD) 84. Held:
“An order taking cognizance by a Magistrate is an interlocutory order and no revision lies against such order.”
বিশ্লেষণ: এই মামলায় আপিল বিভাগ স্পষ্ট বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক cognizance গ্রহণ একটি মধ্যবর্তী আদেশ (interlocutory order), যা কোনো পক্ষের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে না। সুতরাং এর বিরুদ্ধে রিভিশন অগ্রহণযোগ্য।


2️⃣ Abdul Hamid vs. State, 43 DLR (AD) 233. Held:
“The order taking cognizance of an offence does not decide any right of the parties finally, hence revision is not maintainable.”
বিশ্লেষণ: যেহেতু cognizance order কোনো পক্ষের অধিকার বা দোষ নির্ধারণ করে না, এটি শুধুমাত্র প্রাথমিক ধাপ; তাই এটি রিভিশনের আওতায় পড়ে না।


3️⃣ Abu Bakar Siddique vs. State, 52 DLR (AD) 224, Held:
“Taking cognizance by Magistrate being an interlocutory stage, the order cannot be interfered with in revision.”
বিশ্লেষণ: এই মামলায় আপিল বিভাগ আবারও পুনরায় ব্যাখ্যা দেন যে, cognizance হলো প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ; এর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে বিচার বিলম্বিত হবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।


4️⃣ M. M. Rahman vs. State, 44 DLR (HCD) 260, Held:
“No revision lies against an order of cognizance. However, the accused may seek quashment under section 561A CrPC.”
বিশ্লেষণ: এখানে হাইকোর্ট বিভাগ বলেন—যদিও Cognizance Order-এর বিরুদ্ধে রিভিশন করা যায় না, কিন্তু যদি মামলা অপব্যবহারমূলক (abuse of process) হয়, তবে ধারা ৫৬১এ CrPC-এর অধীনে Quashment Petition করা যেতে পারে।


বিচারব্যবস্থাগত যুক্তি (Judicial Reasoning)

১. Cognizance Order মামলার মূল রায়ের অংশ নয়, এটি প্রক্রিয়ার একটি ধাপমাত্র।
২. Revision করার অনুমতি দিলে প্রতিটি প্রাথমিক আদেশেই আপত্তি তোলা হবে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়বে।
৩. তাই ন্যায়বিচার ও কার্যকারিতা (efficiency of justice) রক্ষার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছে যে —
Order taking cognizance is interlocutory in nature; hence no revision lies against it.”

বিকল্প প্রতিকার (Alternative Remedy)
যদি কোনো পক্ষ মনে করে যে Cognizance Order অন্যায়ভাবে বা বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছে, তাহলে সে Section 561A CrPC অনুসারে High Court Division-এ Quashment Application দাখিল করতে পারে।
এই ধারা হাইকোর্টকে “Inherent Power” প্রদান করে যাতে সে “ends of justice” নিশ্চিত করতে পারে।


উপসংহার (Conclusion)
বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী Magistrate কর্তৃক Cognizance Order-এর বিরুদ্ধে Revision দাখিলযোগ্য নয়।
এটি একটি Interlocutory Order, যা কেবলমাত্র বিচারপ্রক্রিয়ার একটি ধাপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।


তবে যদি এমন আদেশের ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় বা অপব্যবহার ঘটে, তখন ধারা 561A অনুসারে Quashment Petition করা যেতে পারে।

উল্লেখযোগ্য রেফারেন্সসমূহ (References):
39 DLR (AD) 84 – The State vs. Md. Ishaque and others
43 DLR (AD) 233 – Abdul Hamid vs. State
52 DLR (AD) 224 – Abu Bakar Siddique vs. State
44 DLR (HCD) 260 – M. M. Rahman vs. State


Advocate Muhammad Mohiuddin Khan
Supreme Court of Bangladesh

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top